সেপিয়েন্স- মানুষের ইতিহাস
বই

সেপিয়েন্স- মানুষের ইতিহাস-ইউবাল নোয়া হারারি

বইঃ সেপিয়েন্স- মানুষের ইতিহাস। #লেখকঃ ইউবাল নোয়া হারারি।

মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে লেখা, “সেপিয়েন্সের” চেয়ে ভালো বই পৃথিবীরতে আর একটিও আছে কি না জানা নেই। এই বইটি এতো জনপ্রিয় কেন? কেন এই বই পড়বেন? এই বইয়ে এমন সব তথ্য আছে যা মানবজািতর প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরোপুরি পাল্টে দিবে।

প্রচীন শিকারী জীবন থেকে বর্তমান আধুনিক জীবন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ কি রকম হতে পারে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আসলেই কি মানুষ এখন উন্নত হয়েছে? আসলেই কি আমরা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সুখী জীবনযাপন করছি? নাকি উন্নতির নামে নতুন নতুন ধোঁকার সম্মুখীন হয়েছি? আশাকরি জীবন সম্পর্কিত মোটামুটি সব রকম প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই বইয়ে। বইটি ৬২১ পৃষ্ঠার। বইটি নির্মাণ মূল্যে সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করেন। বইটির(পেপার ব্যাক) নির্মাণ মূল্য ধরা হয়েছে 250 টাকা পাঠপর্যালোচনাঃ বইটি শুরু করা হয়েছে একটি দিনলিপির মাধ্যমে, ১৫.৫ বিলিয়ন বছর আগে উদ্ভব ঘটেছে পদার্থ ও শক্তির, পরমাণু ও অণুর। দিনলিপিটি শেষ হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য দুটি প্রশ্ন করে। লেখকের মতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব ইতিহাসকে আজকের পরিণতি দিয়েছে।

এগুলো হলো ১) ৭০ হাজার বছর আগের Cognitive Revolution বা বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লব।

২) ১২ হাজার বছর আগের Agricultural Revolution বা কৃষিভিত্তিক বিপ্লব।

৩) ৫০০ বছর আগের Scientific Revolution বা বৈজ্ঞানিক বিপ্লব। তিনি বলার চেষ্টা করেছেন কীভাবে এই তিনটি বিপ্লব মানুষ এবং তার সাথের জীবজগতের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

মোট চারটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ দলবেঁধে শিকার করা থেকে ধীরে ধীরে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। শুরু হয় কৃষিবিপ্লবের কাল। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, এই কৃষিভিত্তিক বিপ্লব মানবজাতির এগিয়ে যাবার এক বিশাল পদক্ষেপ। কিন্তু প্রফেসর হারারি বলেন, “The Agricultural Revolution was history’s biggest fraud.”, যে কারণে “আমরা গমকে পোষ মানাইনি, বরং গমই আমাদের পোষ মানিয়েছে।” কৃষিবিপ্লব কীভাবে অধিকাংশের জীবনমান নিম্নগামী করেছে, তা নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা কৃষিকাজে যে পরিমাণ সময় এবং শ্রম দিয়েছে, তার তুলনায় অনেক নিম্ন পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্যই লাভ করেছে। তিনি বললেন- কৃষিভিত্তিক বিপ্লব ছিল “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধোকা” । বাজে খাদ্যভ্যাস, বেশি সময়ের খাঁটুনি, রোগ বালাইয়ের এর বেশি ঝুঁকি এমন আরো অনেক কারণ দেখানো যাবে যেসব জানলে এমনটা মনে হতে পারে যে,এই কৃষি না এলে হয়তো ভালো ছিল! পুরো বই জুড়ে একটি প্রশ্নের প্রতি প্রফেসর হারারির আলাদা রকমের আগ্রহটা বেশ চোখে পড়ার মতো।সেটা হচ্ছে, ইতিহাসে এই সময়ের পরিক্রমায় মানুষ কি আগের চেয়ে বেশি সুখী হয়েছে? আসলেই কি আমরা এখন বেশি ভালো আছি? নাকি ১৫,০০০ বছর আগের গুহা-জীবনই এর চেয়ে বেশি সুখের ছিল?

বইয়ের শেষে মানবজাতিকে আশার আলো দেখানোর পাশাপাশি ঈশ্বর হয়ে ওঠা মানুষের বাড়তি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি। মানবসভ্যতার ইতিহাস নিয়ে বই পড়তে গিয়ে তথ্য-উপাত্তের ঠাসাঠাসিতে অধিকাংশ পাঠক অস্থির বোধ করেন। এই বইটি পড়তে গেলেও পাঠক অস্থির হয়ে উঠবেন। তবে এবারে অস্থিরতা হবে পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় চমকপ্রদ সব ঘটনা ও আলোচনা নিমেষেই পড়ে ফেলার জন্য।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *