মাদার অফ দ্য বিলিভার্স
ইসলামী জীবন

মাদার অফ দ্য বিলিভার্স (উম্মুহাতুল মুমেনীন:বিশ্বাসীদের মা)-কামরান পাশা

মাদার অফ দ্য বিলিভার্স
(উম্মুহাতুল মুমেনীন:বিশ্বাসীদের মা)
লেখক: কামরান পাশা
ভাষান্তর: (আপাতত সিক্রেট)
[NFSC কালেক্টর”স এডিশন হিসাবে আসবে]

বিশ্বাস কী?

জানো আব্দুল্লাহ, বহু বছর ধরে আমি নিজেকে এই প্রশ্ন করে এসেছি। যখন আমার বয়স কম ছিল, চুলের রং ভোরের সূর্যের মতো অগ্নিবর্ণ ছিল তখনও আমি এই প্রশ্নের উত্তর থেকে যতটা দূরে ছিলাম, আজো ঠিক ততটাই দূরে রয়েছি। অথচ এখন আমার চুলের রং চাঁদের আলোর মতো ফ্যাকাশে রূপোলী বর্ণ ধারণ করেছে।
আমি এসব তোমার জন্য লিখে যাচ্ছি। কারণ আমি জানি, আমার আয়ু শেষ হয়ে আসছে। অবশ্য আমার কোনো অভিযোগ নেই। একটা সময় ছিল যখন মনে হতো অনেক বছর আগেই আমার মরে যাওয়া উচিত ছিল কিংবা মনে হতো যদি আমার জন্ম না হতো, সেটাই বরং ভাল হতো। আমি হৃদয় দিয়ে গাছপালা দেখেছি। ওদের জীবনে সূর্যের স্বপ্ন দেখা আর বৃষ্টির স্মৃতি স্মরণ করা ছাড়া বাড়তি কিছুই নেই। তাই ওদেরকে আমার হিংসে হয়। একটা সময় ছিল যখন মনে হতো, যদি আমি একটা পাথর হতে পারতাম! মদিনার ওপাশে থাকা পাহাড়ের সারির সামনে অসংখ্য পাথর পড়ে থাকে; সেই পাথরগুলো যেন পাহাড়গুলোর সামনে একটা রেখা টেনে দেয়। মনে হতো, লোকজন যেমন পাথরের ওপর দিয়ে চলাফেরা করে, তাকে ভুলে যায়, তেমনি ভাবে যদি আমাকেও ভুলে যেত, এড়িয়ে যেত!
আমি জানি, তুমি প্রতিবাদ করবে, আপত্তি করবে। আমি আবু বকরের কন্যা আয়েশা, এই সময়ের একজন খ্যাতিমান নারী হয়ে কীভাবে নিজের মহিমান্বিত স্মৃতিগুলোকে বোবা, বধির করে রাখার ইচ্ছে পোষণ করছি? এখানেই স্মৃতির হেঁয়ালীপনা, আব্দুল্লাহ। স্মৃতিরা বাতাসের মতো। ওরা বাতাসের ন্যায় নিজের মন-মর্জি মতো আসে। সঙ্গে করে বয়ে আনে বাঁচার আশা আর মৃত্যুর আশঙ্কা। ওদের ওপর তুমি কোনো জোর খাটাতে পারবে না। একদম না। ওরা বরং আমাদেরকে গোলাম বানিয়ে রাখে, ওদের কৌতূহলে থাকে আনন্দের স্পর্শ, ওরা আমাদের হৃদয়কে নিয়ে যেখানে খুশি চলে যায়।
এবার ওরা আমার হৃদয় নিয়েছে, আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়েছে। এখন মাটির ইট দিয়ে তৈরি আমার ছোট্ট শোবারঘরটায় বসে আছি। আমার ভালবাসার মানুষটির কাছ থেকে মাত্র কয়েক ফুট তফাতে বসে এই কাহিনি লিখছি। অনেক কিছু আছে, তবে আমি সেগুলো মনে করতে চাই না। কিন্তু আমার স্মৃতিগুলো চিৎকার করে সেগুলো লিপিবদ্ধ করার কথা বলে, যেন আমি মারা যাওয়ার পর তারা অন্যদের মাঝে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
এবার তাহলে গোড়া থেকে শুরু করা যাক। তখন এক পৃথিবী মৃত্যুশয্যায় আর নতুন পৃথিবী ভূমিষ্ঠ হওয়ার পথে। আমার এই কাহিনিতে অনেক গৌরব আছে, আছে বিস্ময়, সেই সাথে প্রচণ্ড দুঃখও আছে। আশা করি, এই কাহিনি তুমি সংরক্ষণ করবে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী প্রান্তে থাকা সাম্রাজ্যে পৌঁছে দেবে। এখন যারা মাতৃদুগ্ধ পান করছে তাদের মেয়ে এবং নাতনীরা যেন এই কাহিনি মনে রাখে। এখানে আমি যা যা বর্ণনা করব তার অধিকাংশই আমার নিজের চোখে দেখা। বাদবাকি যা থাকবে সেগুলো অন্য কারো মুখ থেকে শোনা ঘটনা, যারা সেই ঘটনা স্বচক্ষে দেখে আমার কাছে বর্ণনা করেছিল।
********
চরিত্র পরিচয়:
আব্দুল্লাহ্= আব্দুল্লাহ্ ইবনে আল জুবায়ের; (নবী পত্নী আয়েশার বড় বোনে আসমা বিনতে আবু-বকর এবং সাহাবী জুবায়ের ইবনে আল আওয়াম দম্পতির পুত্র)
Like our page to show your support!
https://www.facebook.com/NotForSaleClub/

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *