পরকাল সম্পর্কে ইসলাম
ইসলামী জীবন

পরকাল সম্পর্কে ইসলাম

ইসলাম বলে মৃত্যুর পরও আরো একটি জীবন আছে ।যাকে আমরা বলি পরকাল।‘মৃত্যুর’ দেখা যায় কিন্তু মৃত্যুর পর কি আছে তা দেখা যায় না। আর দেখা যায় না বলেই অনেকে মৃত্যুর পর কিছু আছে বলে বিশ্বাস করতে চায় না। আমরা নিজেরা দেখতে পারি না নিজেরা অনুভব করতে পারে না বলেই মৃত্যুর পর কিছু আছে কিনা তা বিশ্বাস করব না। এটা কি যুক্তিসংগত হলো ।আমরা দেখব বিবেক কি বলে।আমরা দেখব এই পরকাল বিশ্বাস করা কিংবা তা না করার ফলে মানুষের জীবনে কি প্রভাব পড়ে আমরা দেখব পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে  মহৎ-সৎ এবং পবিত্র বলে প্রমাণিত আল্লাহর মনোনীত নবী-রাসূলগণ আমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কি শিখলেন—

পরকাল অস্বীকার এর পরিণাম

১-পরকালে বিশ্বাস করে না তার জন্য তো দুনিয়ার এই জীবনটাই সব। শুধু  খাও দাও ফুর্তি কর এটাই তার জীবনের সব কাজ সে এই দৃষ্টিতে দেখে। যে কাজে তার স্বাস্থ্য নেই সেই কাজের উৎসাহ পাবে না ।যে ভালো কাজের মাধ্যমে সে কোনো প্রকার লাভ পাবে না সেটা তার কাছে ভাল কাজ বলে মনে হবে না ।যে অন্যায় কাজের জন্য দুনিয়া সে শাস্তি এড়াতে পারবে তার কাছে সেটা অন্যায় বলে মনে হবে না।

২- কোন ব্যক্তি যদি পরকালে বিশ্বাস না করে তবে সে কোন সৎকাজের উৎসাহ পেতে পারে না কেননা দুনিয়ার সব সৎকাজের ফল পাওয়া যায় না ফলে তার চোখের সামনে অন্যায় হবে জুলুম হবে আর  সে তা তাকিয়ে দেখবে অন্যায় জুলুম এর প্রতিকারের উপায় না দেখে তার মনোবল ভেঙে যাবে।

৩- এইভাবে সমাজ থেকে দিন দিন ভালো কাজ লোপ পায় আর স্বার্থপরতা লোভ লালসা বাড়তে থাকে। অনেকে অন্যের জন্য কষ্ট করবে একে অন্যকে সাহায্য করবে অন্যের দুঃখে শরিক হবে এসব ভাল গুণের কদর কমতে থাকে। একইভাবে কাকে ঠকাবে অন্যের সম্পদ কিভাবে ভোগ করবে এটাই হয় তখন মানুষের সব সময় চিন্তা। সমাজ তখন মানুষের বসবাসের যোগ্য থাকে না। তুমি কি দেখেছ সে লোক কে যে পরকালের শাস্তি কে অস্বীকার করে ।সূরা মাউন আয়াত-১

তাই পরকালে বিশ্বাস একটা মামুলি বিষয় নয় পরকালের প্রতি অবিশ্বাস মানুষকে প্রকৃতপক্ষে পশুতে পরিণত করে মানবতাকে ধ্বংস করে মানুষ  পরিণত হয় খোদাদ্রোহী জালেমে।

পরকাল বিশ্বাসের উপকার

ইসলাম আখেরাত বিশ্বাসকে সকল বিধি-বিধান ও আইন-কানুনের বুনিয়াদ হিসাবে নিয়েছে।

১-বিশ্বাস মানুষের মধ্যে এক শক্তিশালী বিবেকের জন্ম দেয় যা সত্য তাকে সে সত্য বলেই মনে করে মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে ভয় পায় না। দুনিয়ার কোন ভয় ভীতির কারণে সে ভালো কাজ করে না ।নিজের বিবেকের তাড়নাতেই সে সত্যের পথে চলে নির্ভীকভাবে আখেরাতে আল্লাহর সামনে তাকে হাজির হতে হবে সে চিন্তা তাকে পর্বত প্রমাণ জুলুম সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা  করার সাহস যোগায়।

২-আখেরাতের ওপর বিশ্বাস মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে দুর্লভ গুন। পরকালে আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় সে দুনিয়ায় নিঃস্বার্থ ভাবে এগিয়ে আসে পরের উপকার, অন্যের সাহায্যে। তার দ্বারা কারো হক নষ্ট হয়না এতিম মিসকিন পথচারী প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হয় সে।

৩- আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল করে সে বিশ্বাস করে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়। দুনিয়ার প্রতিটি কাজ সে তাই দায়িত্ববোধের সাথেই পালন করেন। কোন প্রকার তদারকি ছাড়াই সে নিজের দায়িত্ব পালন করে যায়।

৪- এমনিভাবে আখেরাত বিশ্বাসের উপর সে সমাজ গড়ে ওঠে সে সমাজে বিরাজ করে  মমতা, সহানুভূতি দয়া ও ভালোবাসা সে সমাজে হক ও ইনসাফের ভিত্তিতে সকল কাজ পরিচালিত হয় আর তখন মানুষ পায় মানুষের প্রকৃত মর্যাদা।

কেন আমরা ইবাদত করব?

আল্লাহ চান মানুষ এই দুনিয়ায় তাঁর দাসত্ব করুক, তার আনুগত্য করুক, আল্লাহকে প্রভু হিসেবে মেনে নিয়ে তার হুকুম মত মানুষ জীবন পরিচয় করুক। জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নির্দেশ মত করুক ।প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ মানুষকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে বলেন -আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি- সূরা আয-যারিয়াত ৫৬।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *